প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর, ২০২৫) দিনব্যাপী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই কঠিন সময়ে তাঁর আপসহীন মানসিকতা এবং দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আলোচনা করছেন বিশিষ্টজনেরা।
শনিবার সকালে নসিপ-এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা এক ফেসবুক পোস্টে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম সংকটাপন্নতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রাজনীতি, দল-মত, মতাদর্শ—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন।
ডা. তাসনিম জারা তাঁর ফেসবুক পোস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সপ্তাহ আগের একটি সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে লেখেন। ওই অল্প সময়ের দেখায় বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে দেশেই থেকে দেশের জন্য কাজ করতে উপদেশ দিয়েছিলেন।
ডা. জারা বলেন,
"অসংখ্য মানুষই একই কথা বলেন, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মুখে এ উপদেশের গভীরতা, ইতিহাস আর সত্যতা সম্পূর্ণ আলাদা।"
তিনি উল্লেখ করেন,
"জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও খালেদা জিয়া দেশ ও দেশের মানুষের পাশ থেকে সরে দাঁড়াননি। বেদনা, অপমান ও দীর্ঘ প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান ও বিশ্বাস থেকে আপোষ করেননি। বছরের পর বছর যে ধৈর্য ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত খালেদা জিয়া স্থাপন করেছেন, তা সবার জন্য অনুকরণীয়।"
ডা. জারা মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি তাঁর রহমত, আরোগ্য ও শান্তি কামনা করে দোয়া করেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মায়ের অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন,
"এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোনো সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে।"
ডা. জারার বক্তব্যে উঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার 'ধৈর্য ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত' এবং 'দেশের পাশ থেকে সরে না দাঁড়ানো'—এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শ ও ত্যাগের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে মিলে যায়।
১৯৫০-এর দশক: আপসহীন নেতৃত্ব: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম—বাংলাদেশের ইতিহাসে সবসময়ই ত্যাগ ও আপসহীনতা ছিল নেতৃত্বের মূল চালিকাশক্তি।
১৯৯০-এর দশক: দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম: সামরিক স্বৈরশাসনের (১৯৮০-১৯৯০) বিরুদ্ধে আপসহীন নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হন এবং দীর্ঘ তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই সংগ্রামই ১৯৯০ সালে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনে।
২০১৪-২০২৪: প্রতিকূলতার মধ্যেও অবস্থান: ড. জারার বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত সরকার কর্তৃক দীর্ঘ কারাবাস ও নিপীড়নের শিকার হওয়া সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ থেকে সরে দাঁড়াননি। এটি তাঁর আদর্শিক অবস্থানেরই প্রতিফলন, যা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫: অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত: তাঁর এই সহনশীলতা ও আপসহীন মানসিকতা, যা ডা. জারা 'সবার জন্য অনুকরণীয়' বলে মন্তব্য করেছেন, তা দেশের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাশেদ খান (গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক): শুক্রবার রাতে তিনি বলেন, "বেগম খালেদা জিয়া আগামীর বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য, গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন, সংগ্রামের জন্য অনুকরণীয়।"
ড. মির্জা গালিব (সহকারী অধ্যাপক, হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়): শনিবার বলেন, খালেদা জিয়া "জালিম হয়ে উঠার চাইতে মজলুম থাকাই যে ভাল... তার সবচাইতে বড় উদাহরণ।"
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস: শুক্রবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দেশবাসীর আন্তরিক দোয়া ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ওপরই নির্ভর করছে 'গণতন্ত্রের মা' হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীর সুস্থ হয়ে ওঠা।
নসিপ-এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্ট (২৯ নভেম্বর, ২০২৫, শনিবার)
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্ট (২৯ নভেম্বর, ২০২৫, শনিবার)
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভস ও গুগল অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা (১৯৫০-২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |